অর্থনীতি

সূচক নিয়ে ভয়ের কিছু নেই : ডিএসই

প্রকাশিত

শেয়ারবাজারের বর্তমান সূচক নিয়ে ভয়ের কিছু নেই। দীর্ঘদিন পর অর্থনীতির অগ্রগতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাজার একটি ভালো জায়গায় অবস্থান নিয়েছে। তবে ধারদেনা, জমি, গয়না বিক্রি করে কারও এ বাজারে বিনিয়োগে আসা উচিত নয়। কারণ, পুঁজিবাজারের বিনিয়োগ ও প্রতিটি শেয়ারের অপর নাম ঝুঁকি।

শেয়ারবাজারের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বক্তারা। আজ বেলা সাড়ে তিনটায় রাজধানীর মতিঝিলে ডিএসইর নিজস্ব ভবনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ডিএসইর পরিচালক রকিবুর রহমান বলেন, বাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে সরকার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, ডিএসইর পক্ষ থেকে গত কয়েক বছরে অনেক ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকেও শেয়ারবাজার সম্পর্কে ইতিবাচক নানা বার্তা দেওয়া হয়েছে। তার প্রতিফলন বাজারে দেখা যাচ্ছে। বাজারের সূচক বর্তমানে যে অবস্থায় পৌঁছেছে, তা নিয়ে ভয়ের কিছু নেই। তবে বিনিয়োগের আগে বিনিয়োগকারীদের বাজার সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা নেওয়া উচিত। যাঁদের হাতে উদ্বৃত্ত টাকা আছে, কেবল তাঁরাই সেই অর্থের একটি অংশ নিয়ে বাজারে আসতে পারেন।

ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে এম মাজেদুর রহমান বলেন, সূচকের উত্থান-পতন দিয়ে বাজারের ঝুঁকি নিরূপণ করা ঠিক নয়। বাজারের লেনদেন যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তা সামলানোর দক্ষতা ও সক্ষমতা দুই-ই রয়েছে ডিএসইর।

সংবাদ সম্মেলনে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ২০১০ সালের শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের বক্তব্যেরও বিরোধিতা করা হয়। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে রকিবুর রহমান বলেন, এখন বাজারে যে কারওরই লেনদেনের তথ্য খতিয়ে দেখার সুযোগ রয়েছে। খেলোয়াড়দের কেউ যদি খেলাধুলা করে, তাহলে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে তা তুলে ধরা উচিত।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন ডিএসইর সভাপতি বিচারপতি সিদ্দিকুর রহমান মিয়া। উপস্থিত ছিলেন সংস্থাটির পরিচালক রুহুল আমিন প্রমুখ।

গত কয়েক কার্যদিবস ধরে সূচক ঊর্ধ্বমুখী ছিল ডিএসইতে। ৯ জানুয়ারি থেকে ১৭ জানুয়ারি সাত কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ডিএসইএক্স সূচক বাড়ে ৪১৭ পয়েন্ট। টানা বৃদ্ধির পর গতকাল বুধবার লেনদেন শেষে সূচক কিছুটা কমতে শুরু করে। ডিএসইএক্স সূচক গতকাল ৪১ দশমিক ৯৭ পয়েন্ট কমে অবস্থান করে ৫৫৩৩ পয়েন্টে।

এদিকে ডিএসইতে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স সামান্য বেড়ে অবস্থান করছে ৫৫৩৪ পয়েন্টে। গতকাল ডিএসইএক্স সূচক ৪১ দশমিক ৯৭ পয়েন্ট কমে হয় ৫৫৩৩ পয়েন্ট। ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১,৪০৮ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। গতকাল লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১,৯৮৯ কোটি ৩২ লাখ টাকা।

ডিএসইতে আজ সবচেয়ে বেশি লেনদেন হওয়া শীর্ষ ১০ কোম্পানি হলো বেক্সিমকো লিমিটেড, ইফাদ অটোজ, বিএআরকে পাওয়ার, আরএকে সিরামিকস, বিবিএস, সিটি ব্যাংক, লঙ্কাবাংলা ফাইন্যান্স, একমি ল্যাবরেটরিজ, ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড ও ন্যাশনাল পলিমার। ডিএসইতে আজ ৩১৮টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ারের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ৮৩টির শেয়ারের দর বেড়েছে, কমেছে ২০৫টির। অপরিবর্তিত ৩০টির দাম।

অপর দিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও আজ সার্বিক সূচক কমেছে ৯ দশমিক ১৯ পয়েন্ট। আজ লেনদেনের পরিমাণ ৮৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা। হাতবদল হওয়া ২৬৬টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ারের মধ্যে দর বেড়েছে ৬৯টির, কমেছে ১৭৩টির, অপরিবর্তিত ২৪টির।

অর্থনীতি এর আরও খবর