অপরাধ

নবজাতক হত্যা, মা আটক

প্রকাশিত

ঢাকার সাভারে এক নবজাতককে হত্যার অভিযোগ উঠেছে মায়ের বিরুদ্ধে। পুলিশ ওই নবজাতকের মা অঞ্জনা মণি দাসকে আটক করেছে।

বৃহস্পতিবার সকালে সাভার পৌর এলাকার ব্যাংক কলোনিতে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। অঞ্জনা (৩০) মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার ঝিটকা গ্রামের গৌরাঙ্গ মণি দাসের স্ত্রী। গৌরাঙ্গ সাভারে থেকে কামারের কাজ করেন।

অঞ্জনার মা মরুনি মণি দাস বলেন, তাঁর মেয়ের ১২, ৯ ও ২ বছরের তিনটি কন্যাসন্তান রয়েছে। ছয় দিন আগে সে আরও এক কন্যাসন্তানের মা হয়। এর কয়েক দিন আগে অঞ্জনা তাঁর ব্যাংক কলোনির বাসায় চলে আসেন। নবজাতককে নিয়ে তিনি তাঁর বাসাতেই ছিল। অঞ্জনার বাসাও ওই এলাকাতেই। তিনি বলেন, সকাল আটটার দিকে অঞ্জনা ও তাঁর নবজাতক মেয়েকে রেখে তিনি কাজের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হয়ে যান। এর কয়েক ঘণ্টা পর সকাল ১০টার দিকে তিনি জানতে পারেন, অঞ্জনার নবজাতক মেয়ে মারা গেছে। এরপর তিনি বাসায় গিয়ে নবজাতকে মৃত অবস্থায় পান।

মেয়ের মৃত্যুর বিষয়ে অঞ্জনা বলেন, জন্মের দুই দিন পর থেকেই তাঁর মেয়ে পেটের সমস্যায় ভুগছিল। সকাল নয়টার দিকে তাঁর মেয়ে পাতলা পায়খানা করে। তিনি মেয়েকে উল্টো করে ধরে তা পরিষ্কার করছিলেন। এ সময় তাঁর মেয়ের শ্বাস বন্ধ হয়ে গলার দুই পাশে কালো দাগ হয়ে যায়। হত্যার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মা হইয়া সন্তানকে কী কেউ মারবার পারে? কীভাবে যে কি হইল কিছুই বুঝবার পারতাছি না।’

প্রতিবেশীরা বলেন, বারবার কন্যাসন্তানের মা হওয়ায় অঞ্জনাকে তাঁর স্বামী গৌরাঙ্গ প্রায়ই নির্যাতন করতেন। তৃতীয়বার কন্যাসন্তান হওয়ার পর গৌরাঙ্গ তাঁকে বাসা থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিলেন। এ নিয়ে অঞ্জনা বেশ বিব্রত ছিলেন।

অঞ্জনার ভাই নিকুঞ্জ মণি দাস বলেন, একটা ছেলেসন্তানের আশায় তাঁর বোন ও ভগ্নিপতি বারবার সন্তান নিচ্ছিলেন। কিন্তু প্রতিবারই তাঁদের কন্যাসন্তান হচ্ছিল। এ কারণে তাঁর ভগ্নিপতি তাঁর বোনকে প্রায়ই মারপিট করতেন। এবারও তাঁদের কন্যাসন্তান হওয়ায় তাঁর বোন মানসিকভাবে অনেকটা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, ‘আমার ভাগনির গলার দুই পাশে যে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে, তা কোনো স্বাভাবিক চিহ্ন নয়।’

জানতে চাইলে অঞ্জনার স্বামী গৌরাঙ্গ মণি দাস বলেন, ‘আমার মেয়ে কীভাবে মারা গেছে তা আমি জানি না। তাকে হত্যা করা হয়েছে কি না, তা–ও আমি বলতে পারব না।’

বারবার কন্যাসন্তান হওয়ায় স্ত্রীকে নির্যাতন করার অভিযোগ প্রসঙ্গে গৌরাঙ্গ বলেন, ‘এসব অভিযোগ সত্য নয়। স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে আমি সুখেই ছিলাম।’

সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সামসুল হক সুমন বলেন, নবজাতকের গলার দুই পাশে রক্ত জমে কালো দাগ হয়ে গেছে। ওই স্থানে সামান্য ক্ষতেরও সৃষ্টি হয়েছে। এটা স্বাভাবিক কোনো বিষয় নয়। বল প্রয়োগের কারণেই এমন দাগ ও ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে।

সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান বলেন, মৃত নবজাতকের মা অঞ্জনাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের জন্য নবজাতকের লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অপরাধ এর আরও খবর